কামশাস্ত্র ও বাৎসায়ন

2
294

বাৎসায়ন ও কামশাস্ত্রের সময়কাল

বাৎসায়ন বিশ্বখ্যাত ‘কামসূত্র’ গ্রন্থের লেখক। যার সময় কাল খ্রী.পূর্ব তৃতীয় শতাব্দী। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল ‘মল্লনাগ’, তবে তিনি তাঁর গোত্রনাম ‘বৎস্যায়ন’ হিসাবেই খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। যে সব রাজ্যের রীতিনীতি বিশেষত কামসূত্রে উল্লিখিত হয়েছে, সেগুলি থেকে অনুমান করা হয় যে বাৎসায়ন অবশ্যই পশ্চিম বা দক্ষিণ ভারতের বাসিন্দা ছিলেন। কামসূত্রের শেষ শ্লোক থেকে জানা যায় যে, বাৎসায়ন ব্রহ্মচারী ছিলেন তাসত্ত্বেও ভারত তথা বিশ্বের দরবারে কামসূত্র একটি অনন্য কাজ।

পঞ্চতন্ত্রে তাঁকে ‘বৈদ্যকশাস্তজ্ঞ’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। মধুসূদন শাস্ত্রী আয়ুর্বেদের নিরীখেই কামসূত্রকে বিবেচনা করেছিলেন। বাৎসায়ন প্রাচীন ভারতীয় ধারণার সাথে মিল রেখে কামকে অনায়াস বলে মনে করেছিলেন। সুতরাং ধর্ম ও অর্থ সহকারে একজন ব্যক্তির কাম (পুরুষার্থ) সংবেদনশীল হয়ে উঠতে হবে।

জীবনের পরিচয়ঃ

বাচস্পতি মিশ্রের মতে, বাৎসায়ন যিনি ন্যায়ভাস্যের রচনাকার তাঁর আসল নাম ‘পক্ষিলস্বামীন্’, যা তাঁর পিতা নামের ব্যুৎপত্তিগত নাম থেকেই ‘বৎস্যায়ন’ নামটি গ্রহন করেছিলেন। বিদ্যাভূষণ বলেছেন যে বাৎসায়ন নাম ছিল ‘ট্রামিল’ (বা দ্রাবিড়)। কিন্তু বিদ্যাভূষণ শ্রীরাম নামটি নিশ্চিত করার জন্য অভিধি চিন্তামণীর যে শ্লোকটি উদ্ধৃত করেছেন তা অর্থশাস্ত্রীয় চাণক্য, কামসূত্রকার বৎসায়ন এবং ন্যায়ভাস্যকার বৎসায়নের মধ্যে পার্থক্য করে না।

বাৎসায়ন, গৌতমের সমসাময়িক বা ঘনিষ্ঠ অনুসারী কোনওটাই ছিলেন না, বরং সম্ভবত গৌতমের দু তিন শতাব্দী অনুসরণ করেছিলেন। জ্যাকবী এটা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, “ন্যায়সুত্রের” সূত্রকে শ্রেণীবদ্ধ করে এমন সূত্রটির অর্থ নির্ধারণে বাৎসায়নেরও বেশ অসুবিধা হয়(तत्वपूर्वकं त्रिविध-मनुमानं पूर्ववत् शेषवत् नामान्यतोदृष्टं च)।
সুতরাং, বাৎসায়ন তার অর্থ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অনেক প্রতিশব্দ দিয়েছিলেন। এর অর্থ এই হতে পারে যে গৌতমের সময়ে যে অনুমান শ্রেণিবিন্যাসের রীতি অনুসরণ করা হয়েছিল তা গৌতমের পরে খণ্ডিত হয়েছিল এবং এটি মূল রূপে বাৎসায়ন পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি। সুতরাং গৌতমকে যদি দ্বিতীয় শতাব্দীতে স্থাপন করা হয়, তবে বাৎসায়নের সময়কাল চতুর্থ বা পঞ্চম শতাব্দীর হতে পারে। পণ্ডিতরা বাৎসায়নের সময় নিয়ে আলোচনা এখনও অবধি চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক পণ্ডিত ষষ্ঠ শতাব্দীতে বাৎসায়নের সময় এবং অনেকে পঞ্চম শতাব্দীতে কাল নির্দিষ্ট করেছিলেন। বিভিন্ন পণ্ডিত এই দুই মতের মধ্যবর্তী সময়কে বাৎসায়নের সময়কাল হিসেবে বিবেচনা করেছেন। উপরোক্ত প্রমাণগুলি থেকে,বাৎসায়নের কাল কেবলমাত্র খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতাব্দীর কাছাকাছি বলে ধরে নেওয়া যায়।
পণ্ডিতগণ এটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পতঞ্জলি মহাভাষ্যের ব্যাকরণের সাথে বাৎসায়ন ভালভাবেই পরিচিত ছিলেন এবং মহাভাষ্যের রচনার প্রভাবও নব্যভাষায় দৃশ্যমান। উইন্ডিস স্বীকার করেছেন যে এই ন্যায়বিচার পুরোপুরি বাৎসায়নের নয়, তবে এতে একটি বক্তব্য লুকানো আছে। এই গ্রন্থটি প্রাচীন এবং এর স্টাইল ও ব্যাকরণ মহাভাষ্যের শৈলীতেই পাওয়া যায়।”কামসূত্রের” লেখক যিনি আজ আমাদের সামনে আছেন, তিনি তাঁর নিজস্ব ভাষ্যটিতে উপলব্ধ সাহিত্য-পাঠককে যথোচিত উপায়ে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। “কামসূত্র” রচনার সময় বৌদ্ধ্যয়ান আমাদের সামনে গৌতম প্রণীত ‘ন্যায়দর্শনের’ একটি বিশদ চিত্র রেখে গেছেন। তিনি কেবল গৌতমকে অনুবাদ করেছেন এবং ব্যাখ্যা করেছেন, বিষয়টি এমন নয়, গ্রন্থটি রচনা করার সময় তিনি কামশাস্ত্রকে আরও উন্নত করেছেন।

2 COMMENTS

  1. I’m amazed, I must say. Rarely do I come across a blog that’s equally educative and
    amusing, and let me tell you, you’ve hit the nail
    on the head. The problem is something too few folks are speaking intelligently about.
    I’m very happy that I found this during my search for something relating to
    this.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here