বি পু ল চ ক্র ব র্তী-র কবিতাগুচ্ছ

38
589
পরিচিতিঃ বিপুল চক্রবর্তী (জন্মঃ ২৫ মার্চ ১৯৫৫) একজন বাঙালি কবি, গীতিকার, সুরকার ও গায়ক। ২০১২ সালে ‘শিউরে উঠে বলেছিলাম’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি বীরেন্দ্র পুরস্কারে সম্মানিত হন। সংক্ষিপ্ত জীবনী – বিপুল চক্রবর্তী ১৯৫৫ সালে দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম রমানাথ চক্রবর্তী। মাতার নাম উমারানী চক্রবর্তী। তাঁর জন্ম যদিও কলকাতায়, শৈশব-কৈশোর কেটেছে কখনও বাঁকুড়ায় কখনও উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সে। পড়াশোনাও তাই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। শিক্ষা পরবর্তী জীবনে একটি সরকারি অফিসে তিনি টানা চাকরি করেন। তাঁর প্রথম কবিতার বই ‘তোমার মারের পালা শেষ হলে’ ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয়। তাঁর কবি জীবনে নানা ছোট পত্রিকাতে তাঁর কবিতা প্রকাশ পেয়েছে। সত্তরের গণ-আন্দোলন এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছিল তাঁর কবিতায়, তাঁর গানে। পরবর্তী সময়ে নানাবিধ পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্য দিয়েও এগিয়েছেন তিনি। ২০১২ সালে ‘শিউরে উঠে বলেছিলাম’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি বীরেন্দ্র পুরস্কারে সম্মানিত হন। কবিতা লেখার পাশাপাশি গান লেখা, সুর করা আর গান গাওয়া বিপুলের জীবনের অন্যতম অবলম্বন – অন্যতম আনন্দ। ১৯৮১ সাল থেকে ‘অনুশ্রী-বিপুল’ এই জুটি হিসেবে কলকাতা মহানগরী থেকে বাংলার প্রত্যন্ত প্রান্তে গান গেয়েছেন – গান গেয়ে চলেছেন। এ পর্যন্ত মোট সাত-আটটি ক্যাসেট/সিডিতে সে গান প্রকাশিত। গ্রন্থ তোমার মারের পালা শেষ হলে আমি দেখছি নীল পাহাড়ের দেশে দুঃখের আঁধার রাতে, প্রিয় তোর মুখ দেখতে চাই রাত্রিজল ছুঁয়ে জেগে আছি ছেলের ঠোঁটে আকন্দের দুধ শিউরে উঠে বলেছিলাম রং তোমাকে জল পড়ি পাতা পড়ি বন্দিদশার কবিতা ২০০৯ সালে “তোমার মারের পালা শেষ হ’লে” থেকে “ছেলের ঠোঁটে আকন্দের দুধ” পর্যন্ত, প্রথম দিকের নিঃশেষিত তাঁর সাতটি বই এক মলাটের নিচে এনে “ডানা ঝাপটায় পুরনো পোস্টার” নামে এক সংকলন প্রকাশিত হয়।

বি পু ল    চ ক্র ব র্তী-র কবিতাগুচ্ছ

যেতে যেতে

সন্ধ্যা নেমে এল

যেতে যেতে সন্ধ্যা নেমে এল
যেতে যেতে হারাল প্রান্তর
যেতে যেতে রাক্ষুসে প্রাসাদ
যেতে যেতে সে এক শহর
.
যেতে যেতে ভীষণ হাঁ-মুখ
যেতে যেতে, যাওয়াই সঙ্গিন
যেতে যেতে পার হওয়া তবু
দিন আর রাত্রি আর দিন…

 

ব্যথার আগুনে

.
সে ছিল আমার দুঃখী বয়স —
গঞ্জনা কত কী যে
পুড়েছে সে তার ব্যথার আগুনে
পুড়ছি আমিও নিজে
.
আগুন পেরিয়ে সে কী চেয়েছিল —
কোন্ সে পৃথিবী পেতে
খুঁজে ফিরি আজও তার সে ভুবন
যেতে যেতে যেতে যেতে…

কুয়াশার দেশে

দু’টি হাতে কুয়াশা তাড়াই
কুয়াশায় ফের যাই ঢেকে
একদিন পাশে ছিল কারা
আজ নেই তাহাদের কে কে
.
কুয়াশায় যেতে যেতে যেতে
এই, শুধু এই-ই দেখে নেয়া
কুয়াশা জড়ানো দু’টি হাতে
বেয়ে চলা জীবনের খেয়া…

 

চরৈবতি

বাতাস বলেছে, চলো চলো বয়ে চলো
আমি কিছু বলি, তুমি কিছু কথা বলো
.
কারা তা শুনছে, দরকার নেই জানার
পাখিটি বলেছে, ওড়বারই কথা ডানার
.
ঝরাপাতা আর নদীও বলেছে তাই-ই
যেতে যেতে আমি সেই কথা লিখে যাই…

মাদারির খেল

একঃ

কষ্টেসৃষ্টে কেটে গেল দিন —
কখনও চাইনি পেতে
কেষ্ট
শুধু আসা-যাওয়া
আর থাকা-খাওয়া
এজন্য
চেয়েছি সামান্য
কিছু রেস্ত
সেখানে পড়লে টান
খানখান
হয়েছি, চেয়েছি
হেস্তনেস্ত
.
একদিন হেঁটেছি রাস্তায়
টানটান
বাধা ছিল, পরোয়া থোড়াই
আজকে খোঁড়াই
খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটি…
মনে হয়, এর চেয়ে
এখানেই দাড়ি টানা শ্রেয়
হাত-পা ঝারা
যত্রতত্র হ’তে হয়-না হেয়
আর তাছাড়া
শুরু হয় যে রচনা, আছে তার
শেষ তো!

 

দুই

একদিন তো যেতে হবেই —
পেরিয়ে রোদন
শ্মশানে যাওয়ার পথে
দেখে যাব প্রসূতিসদন
না, ধনি
ওখানে জন্মাইনি
তবে, বলা যেতে পারে
ওখানে প্রত্যহ আমি
প্রতিটি শিশুর মধ্যে
এখনও জন্মাই
.
যাই
জীবনের মাদারির খেলা
আর-বার শেষবেলা
দেখে যেতে চাই —
এপাশে আসছে কেউ
এপাশে হাসির ঢেউ
ওপাশে শ্মশানঘাটে
কী মরাকান্নাই
.
এইসব দেখতে দেখতে
একদিন যেতেই হবে, ভাই!

লেখা পাঠাতে পারেন

38 COMMENTS

  1. কবি বিপুলের কবিতাগুচ্ছ টি ইদানীং কালের কবির জীবনের প্রতি প্রেমের আর চেতনার এক অপূর্ব প্রকাশ। যতদুর জানি কবির কবিতা চিরকাল ই তার জীবন-সংগ্রামের, চেতনার প্রকাশ। যৌবনের উদ্দাম তেজ এবং প্রেমের সজীবতায় তার প্রথম জীবনের কবিতা রচিত – যা বাঙ্গালী পাঠককে মুগ্ধ এবং উদ্বুদ্ধ করেছে। পরিণত বয়সেও যা সমান ভাবে পাঠকের চেতনাকে উদ্বুদ্ধ করে চলেছেন। তার দীর্ঘ চলার পথের সুগমতা, মসৃনতা কামনা করি।

    • ভাই/বন্ধু অলোক রায়, অশেষ ধন্যবাদ জানাই এমন সুন্দর একটি মন্তব্য রাখার জন্য। ভালোবাসা জানাই।

  2. প্রতিটি শিশুর মধ্যে এখনও জন্মাই। এমন উচ্চারণের পাশে স্তব্ধ বসে থাকতে ইচ্ছে করে। বিপুলদার প্রতিটি লেখাই আমাকে প্রতিবার নাড়া দিয়ে যায়। এই যে এক ই শব্দের বারবার প্রয়োগের মুন্সিয়ানা যা কবিতাকে অদ্ভুত একটা চলন দেয় এটাই আমার কাছে সবচাইতে প্রিয়। প্রতিটি কবিতার কাছে আমার নমস্কার রেখে গেলাম।

    • বন্ধু শ্রাবণী গুপ্ত, অশেষ ধন্যবাদ জানাই এমন সুন্দর একটি মন্তব্য রাখার জন্য। প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই।

  3. এ সংখ্যায় বিপুল চক্রবর্তীর কবিতাগুচ্ছ একটি বড়ো প্রাপ্তি। প্রতিটি লেখাই জীবনের প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ। চিরতরুণ এই কবিকে অভিবাদন।

    • ভাই/বন্ধু দিলীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, অশেষ ধন্যবাদ জানাই এমন সুন্দর একটি মন্তব্য রাখার জন্য। প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই।

  4. “পাখিটি বলেছে,ওড়বার ই কথা ডানার”সত্যি ই তো, কতো কিছু কথা থাকে ….সব কি নিয়ম মেনে চলে?
    কবির কবিতার চলন আমায় মুগ্ধ করে। একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে এক একটি লাইন বার বার পড়ি। ছন্দের অদ্ভুত এক দোলায় মন ভরে যায়। অসাধারণ। কবির কবিতার প্রতিটি অক্ষরে জানাই শ্রদ্ধা। আরও পাবার প্রত্যাশায় রইলাম কবির কাছে 🙏

    • বন্ধু সরসী চক্রবর্তী, অশেষ ধন্যবাদ জানাই এমন সুন্দর একটি মন্তব্য রাখার জন্য। প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই।

    • ভাই/বন্ধু সুব্রত মণ্ডল, অশেষ ধন্যবাদ জানাই আপনার মন্তব্য রাখার জন্য। প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই।

  5. বন্ধু শ্রাবণী গুপ্ত, অশেষ ধন্যবাদ ও ভালোবাসা জানাই আপনাকে এমন সুন্দর একটি মন্তব্য রাখার জন্য।

    বাইফোকালিজম্-এর বন্ধুদেরও এই সুযোগে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

    • পূর্বে আমার করা এই মন্তব্যটি এখন অর্থহীন হয়ে গিয়েছে। ‘বাইফোকালিজম্’-এর অ্যাডমিনকে অনুরোধ করি, এটিকে ডিলিট করার জন্য।

  6. এক অক্লান্ত পদচারণার পান্থজন । সম্মুখে তাঁর স্বপ্নপথ । চিরদিবস চিররাত্রিকাল ডানা ঝাপটিয়ে চলা । অনন্তকাল চলার গাথায় গাঁথা একগুচ্ছ কাব‍্যকথা । ব‍্যথার আগুনে সেঁকে নেয়া প্রতিজ্ঞা বাধার পাথুরে পথে থুবরে থুবরে হাতরে হাতরে অধরা স্বপ্নফসল তুলবে ঘরে — এই তাঁর চিরবাসনা । অধরা, তবু গান বাঁধা, গান গেয়ে এগিয়ে চলা সে স্বপনের পিছু পিছু । বসন্ত-সবুজ সময়ের স্রোতে ভেসে ভেসে সে ধূসর-শীতের ক্ষীণতোয়ায় পা ভিজিয়ে ঝাপসা দিঠি আলতো বুলোয় সুদূরে । নিশিভোরের খোঁজ তবু ছুঁয়ে থাকে চরণের চলার ব‍্যাকুলতায়। জানে, কবি জানে, শীতের ধূসরতার আড়ালে লুকিয়ে চলে বসন্তর সবুজ প্রস্তুতি । এই অফুরান চলমানতাই কবিজীবন । তাঁর কপালে আঁকা চিরঅসন্তোষের তিলক ।

    • বন্ধু ঝুমুর, অশেষ ধন্যবাদ জানাই এমন দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের কথা মন্তব্যে তুলে ধরার জন্য। চাই, এভাবেই পাশে থাক চিরকাল। ভালোবাসা জেনো।

  7. বিপুলদা অন্যতম প্রিয় কবি আমার। যথারীতি তাঁর এই কবিতা গুলিও ভালো লাগল ভীষণ ।

    • ভাই/বন্ধু সূর্য মণ্ডল, অশেষ ধন্যবাদ জানাই তোমার মন্তব্য রাখার জন্য। বৃষ্টি মাথায় আবারও একদিন চ’লে এসো। প্রীতি ও শুভেচ্ছা জেনো।

  8. আমি লিখবো, একটা অ্যাডভেন্চার। কারণ গত চার দশকেরও অধিক সময় জুড়ে বিপুলদার যে কাব্যাভিযান, সেটাকে নিছক এক্সপেরিমেন্ট লিখলে, তার মেধা মননকে খাটো করা হবে। সারাদিন মিটিং মিছিল সেরে বা জেল থেকে ফিরে একজন বিপ্লবী ঘরে বসে অন্যরকম গল্প করে স্ত্রী সন্তানসন্ততি বন্ধুবান্ধবীদের সাথে। তেমনই প্রতিবাদী, অথচ ঘরোয়া বিপুলদাকে খুঁজে পেলাম আলোচ্য কাব্যগুচ্ছে। ‘তোমার মারের পালা শেষ হলে’ থেকে ‘শিউরে উঠে বলেছিলাম’-এর যে ঘরানা, কবি তার সন্নিকটে দাঁড়িয়েই খুব আপন আপন কথা লিখেছেন এই সব কবিতায়। এমন সংসারে খুব মায়া থাকে। বিপুলদার কবিতা লেখার কালি যেন সেই মায়াকাজলে ডোবানো।

    • ভাই/বন্ধু শুভঙ্কর, দু’চোখ ভিজে উঠলো তোমার মন্তব্য পাঠ ক’রে। অশেষ ধন্যবাদ ও ভালোবাসা জানাই। পাশে আছ, এভাবেই পাশে থেকো চিরকাল।

  9. অনেকে বলেন, যে ভাষায় রোজ কথা বলি, আর যাই হোক সে ভাষায় কবিতা হয় না। অনেকে বলেন, অন্তমিল ছন্দে ছড়া হয়, কবিতা নয়। অনেকে বলেন, একই শব্দের বারবার প্রয়োগ কবিতাকে একঘেয়েমি এনে দেয়। তাদের সেই সমস্ত কথার জবাব দেয় ওপরের কবিতাগুচ্ছ! কত সহজ কথা, কতবার একই শব্দের পুণঃপ্রয়োগ, অন্তমিল সব বজায় রেখেও কত আন্তরিক, কত গভীর প্রতিটি কবিতা! কবিতার প্রতিটি স্তবক মনে ছবি আঁকে, গান শোনায় আর ক্রমশঃ চলচ্চিত্রে পরিণত হয়! এক অতীব সহজ চলন কি অনায়াসে পৌঁছে দেয় এক চরম অনিবার্যতায়!! বাড়িয়ে দেয় আরও প্রত্যাশার পারদ……

    • অশেষ ধন্যবাদ, বন্ধু দীপঙ্কর! কিছু প্রশ্ন উত্থাপন ক’রে আপনি নিজেই সে-সবের উত্তর দিয়েছেন। এ প্রশ্নে আমার শুধু এটুকু বলার যে, নিজেকে প্রকাশ করার জন্য কবিরা তাঁদের নিজের ভাষাকে খুঁজেছেন নিজের মতো ক’রে, যুগে যুগে। সেই ভাষা ‘বোঝা’ (burden) যেন না হয় কখনও। এইটে বোঝা উচিৎ। আর ছন্দ ও অন্ত্যমিল ব্যবহারের প্রশ্নে বলতে হয় যে, ও-দুটি বাদ দিলে কবিতার সম্পূর্ণ অতীতকেই তো বাদ দিতে হয়! এ হয় নাকি! কারা যে এসব কথা বলেন! যা হোক,এটুকু বুঝেছি যে, কবিতা কারও হুকুমে চলেনি কোনদিন – আজও চলে না।

      প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানবেন।

  10. “ওখানে জন্মাইনি/ তবে, বলা যেতে পারে/ ওখানে প্রত্যহ আমি/ প্রতিটি শিশুর মধ্যে/ এখনও জন্মাই”

    “শুধু আসা-যাওয়া/ আর থাকা-খাওয়া/ এজন্য/ চেয়েছিসামান্য/ কিছু রেস্ত/ সেখানে পড়লে টান/ খানখান”

    “পাখিটি বলেছে, ওড়বারই কথা ডানার”

    “আগুন পেরিয়ে সে কী চেয়েছিল —
    কোন্ সে পৃথিবী পেতে
    খুঁজে ফিরি আজও তার সে ভুবন
    যেতে যেতে যেতে যেতে…”
    এখানেই চিনেছি কবিকে, তাঁর নিজস্ব ঘোষণার আঙ্গিকে।
    সময়ের বেয়াড়া জেদি ঘোড়া ছুটছে …..ছুটছে। মুখের ফেনায় ভরে যাচ্ছে নিভু নিভু লক্ষ্যের প্রত্যয়।
    পেশিতে শ্রমের ক্লান্তি, অধরা স্বপ্নের হাতছানি এখনো অমলিন। তবুও কোথাও গভীর গোপনে দু’এক ফোঁটা
    ব্যথা, শিরশির করে নেমে আসে কবির উদ্ধত ঠোঁটে।
    অনেক অনেক ধন্যবাদ কবিকে। কুর্নিশ কবির স্বপ্নকে। আন্তরিক সুন্দর প্রকাশ ছুঁয়ে গেল গভীরতায়।

    • অশেষ ধন্যবাদ, বন্ধু মানস মণ্ডল! খুব ভালো লাগল আপনার মন্তব্য পাঠ ক’রে। প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানবেন।

  11. বড়ো ছায়ার কথা, দাদা। পড়ন্ত বেলার, পেরিয়ে যাওয়ার কথা–এত যাওয়ার কথা–কেন? আপনার থাকা যে খুব জরুরি। আমার মতো আরো অনেকের জন্য। অভিভাবকহীন এক মরা সময় পুড়িয়ে দিচ্ছে আমাদের জগৎ। লিখুন। সুস্থ থাকুন। থাকতে হবে আপনাকে।

    • আছি তো, ভাই সিদ্ধার্থ, তোমার সঙ্গে তোমাদের সঙ্গে জুড়ে আছি বহমান সময়ের তরঙ্গে। ভালোবাসা জেনো।

  12. বিপুল চক্রবর্তীর এই কবিতাগুলি এক মুগ্ধতার আবেশে আচ্ছন্ন করল। চিত্রকল্পের বহুমাত্রিক ব্যবহার, morbidity সবটাই আকৃষ্ট করল।

    • বন্ধু বিদিশা চক্রবর্তী, অশেষ ধন্যবাদ জানাই অল্প কথায় এমন সম্পূর্ণ একটি মন্তব্য রাখার জন্য। প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই।

  13. কবি বিপুল চক্রবর্তীর মতো কবিদের, কবি বোধ আকাশ থেকে নেমে আসে না। এদের কবিতার শব্দ গুলির জন্ম হয় সমাজকে খুব সামনে থেকে প্রত্যক্ষ করার মধ্য দিয়ে। জন্ম হলে মানুষের মৃত্যুও অনিবার্য। কিন্তু এরা বেঁচে থাকেন সমাজের গর্ভে।মৃত্যু, অনিবার্য জেনেও কবি কত সহজে বলতে পারেন ঃ”ওখানে প্রত্যহ আমি
    প্রতিটি শিশুর মধ্যে
    এখনও জন্মাই”
    আমার মনে পড়ে তার এক খানি বিখ্যাত কবিতার এক অসাধারণ লাইনঃ ” এমন ভাবে মারো, তোমার মারের পালা শেষ হলে আমাকে দেখায় যেন ডোরা কাটা বাঘের মতো”। এ যেন রাইফেলের মতো, শব্দের অস্ত্র কাঁধে নিয়ে অত্যাচারীর প্রতি কবির সশস্ত্র হুংকার”।
    ভালো থাকুন বিপুলদা।
    মার খেতে খেতে গুটিয়ে যাওয়া আমাদের আজ ডোরা কাটা বাঘের মতো হ য়ে ওঠার ভীষণ প্রয়োজন।আর
    তাই আপনাকেও আমাদের ভীষণ প্রয়োজন।

    • অশেষ ধন্যবাদ, বন্ধু পিনাকী দত্ত গুপ্ত! খুব ভালো লাগল আপনার মন্তব্য পাঠ ক’রে। আমি আছি ভাই, আপনাদের সঙ্গে। প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানবেন।

  14. Kabita guli te je chirantan asha-jawar kotha tule dhorechen kabi, shetai charam satya. Mahabishwe r chhande o amader jibon e ei asha-jawar taale taale i toiri hoy nana smriti, anubhuti o sur. Onar kabita te shei chhanda ke khub gabhir bhabe khunje pai.

    • অশেষ ধন্যবাদ, বন্ধু পাপিয়া রায়! খুব ভালো লাগল আপনার মন্তব্য পাঠ ক’রে। প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানবেন।

  15. বিপুল চক্রবর্তীর কবিতা গুচ্ছ
    অল্প অবয়বে গভীর জীবনবোধ প্রকাশ করেছেন।
    “আগুন পেরিয়ে সে কী চেয়েছিল, / কোন সে পৃথিবী পেতে”
    সে পৃথিবী আজও অধরা। তবুও স্বপ্ন বেঁচে থাকে নবজাতকের মধ্যে।

    • অশেষ ধন্যবাদ, বন্ধু তপন কুমার রায়! খুব ভালো লাগল এখানেও আপনার মন্তব্য পেয়ে। প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানবেন।

  16. বাইফোকালিজম্-এর বন্ধুদেরও এই সুযোগে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ভালোবাসা জানাই।

  17. আপনার কবিতায় নানা রকম ব্যাঞ্জনা.. ভারী সুন্দর করে বিবৃত বলার কথা গুলি। যে যার মত করে চিনে নেবে তারে।
    পড়তে খুব ভাল লাগছিল।
    রইল অফুরান শুভেচ্ছা। 🙏🌹
    ভাল থাকুন।

    • অশেষ ধন্যবাদ, বন্ধু মন্দিরা! খুব ভালো লাগল এখানেও তোমার মন্তব্য পেয়ে। তোমাকেও প্রীতি, আর, সকালের শুভেচ্ছা জানাই।

  18. আমার বাংলা কবিতার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা খুবই কম। ঝাড়খণ্ড থেকে শান্তিনিকেতনে পড়তে যাওয়ার পর বাংলা সাহিত্য আর সংস্কৃতির সাথে পরিচয় হয়। আগে কিছুটা হিন্দি অনুবাদ সূত্রে বাংলা কবিতা পড়ে ছিলাম কিন্তু সেটা খুবই অল্প। এখনো আমি বাংলা কবিতার ব্যাপারে বিশেষ কিছু জানি না। যতটা পড়তে পেরেছি সেখানে নবারুণ ভট্টাচার্য, বীরেন্দ্র চটটোপাধ্যায় এর সাথে বিপুল চক্রবর্তী আমার খুবই প্রিয় কবির মধ্যে একজন।

    বিপুল চক্রবর্তী আমাদের সময়ের এমন একজন কবি (হিন্দি – বাংলা মিলিয়ে) যিনি তাঁর সময়ের স্পন্দন কে খুব সতর্ক ভাবে শোনেন। শোনার পরে এমনভাবে লিখেন যে আমাদের স্তব্ধ করে দেয়। পাখি ও ঝরাপাতা দুটোই সমান ভাবে গুরত্ব পায় ওনার কাবসংসারে।
    তিনি গত পঞ্চাশ বছর ধরে তাঁর সময়ের স্পন্দন শুনছেন আর সেটা লিখছেন ও গাইছেন। বিপুল চক্রবর্তীর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হ’ল তিনি ক্রমাগত তার নিজের সীমা দখল করেন। কেবল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সংবেদনশীল কবি এটি করতে পারেন। এখানে প্রকাশিত কবিতাগুলি কবির অবিচ্ছিন্ন বিকাশের পরিচায়ক।
    (বাংলা লেখা ভুল হলে আমি আগেই ক্ষমাপ্রার্থী)

    • অশেষ ধন্যবাদ ও ভালোবাসা জানাই তোমাকে, ভাই রাহী! বাংলায় কী ভালো যে লিখেছ! চোখ-কে পীড়া দেয়, এমন কোনও ভুল সত্যিই আমি খুঁজে পাইনি। তুমি একজন কবি ব’লে আমার কবিতার চলাচল সম্পর্কে লিখতে পেরেছ যে, “পাখি ও ঝরাপাতা দুটোই সমান ভাবে গুরত্ব পায় ওনার কাবসংসারে (কাব্য-সংসারে)”। জয় হোক তোমার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here