গৌ ত ম   ম ণ্ড ল-র ধারাবাহিক উপন্যাস– হেঁতালপারের উপাখ্যান(১২তম পর্ব)

0
30
পরিচিতিঃ ১৯৮৩ এর ১৫ই জুন সুন্দরবনের প্রত্যন্ত দ্বীপ বড়রাক্ষসখালিতে জন্ম। জল জঙ্গলে বড় হয়ে ওঠা। বর্তমানে দক্ষিণ২৪ পরগণার কাকদ্বীপের একটি বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক। কবিতার নিয়মিত লেখক নয়।বাইফোকালিজম্-র পাতায় আজ তাঁর ধারাবাহিক উপন্যাস “হেঁতালপারের উপাখ্যান“-র ১২তম পর্ব

গৌ ত ম   ম ণ্ড ল-র ধারাবাহিক উপন্যাস

হেঁতালপারের উপাখ্যান(১২তম পর্ব)

ভাঙা মন্দির, পুরাতন বাসন

“ফির তেরে কুচে কো জাতা হ্যায় খায়াল/দিলে গুমগশতা মাগার য়াদ আয়া”গালিব

(ভাবনা আবার তোমার গলিতে যেতে চায়/বোধ হয় হারানো হৃদয়ের কথা মনে পড়েছে)

গঙ্গাবুড়ির ঘাট থেকে যখন নৌকার হাল ঘুঁটতে শুরু করলুম তখন ভরনা হয়ে গেছে। জলের টান নেই। ভরা গাঙ। জল থৈ থৈ করছে বাঁধের গলা অব্দি। এপারের বানি, গরান আর কেওড়া গাছ গলা অব্দি ডুবে স্নান সেরে নিচ্ছে। বগড়া গাছগুলো (আমরা হেঁতাল গাছকে বগড়া গাছ বলতুম) কাঁটা সমেত জলের তলায় লুকোচুরি খেলছে। জলের গা ধরে একটা নোনা বোড়া সাপ হলহল করে বেয়ে গেল। শুকনো পাতা, ডাল আর রাজ্যের যত ফেলে দেওয়া জিনিসপত্তর যাদের আমরা একসংগে হজালি বলতুম, ভেসে হালকা চালে দোল খাচ্ছে বাঁধের ধারে। একটা গাছের মুড়ো ভেসে আছে অদূরে। তার ভাসমান একটা মোটা শিকড়ের উপর একটা গাংচিল বসে আছে। মাথার উপর দিয়ে একটা বন কাক সাঁই করে উড়ে গেল। কোথা থেকে হঠাৎ একটা বিকট পচা গন্ধ ভেসে এল হালকা বাতাসে।

  এই ভরনার সময়ে বেন্তিজালের পোঁটা ঝাড়া হয়। ঠিক সময় ধরে নৌকা যায়। জাল ঝাড়ে। সময়ের একটু ওদিক ওদিক হবার জো নেই। ভাঁটার টান একবার শুরু হলে আর জালের লেজের মতো পোঁটা নৌকায় তোলা যাবে না। বেশি কুস্তিকাস্তা করতে গেলে ভাঁটার স্রোতে নৌকা উল্টে ডুবে যাবে। ভাঁটার স্রোত জালের কাছে গেলে বোঝা যায়, কী তীব্র! জালের মুখে মানুষ পড়ে গেলে স্রোতে সে জালের পোঁটায় চলে যাবে। তারপর জলের স্রোত আর মাছের চাপে পলকে সে মরে যাবে। তার হাড়গোড় দলা পাকিয়ে যাবে। বছর তিনেক আগের কথা। হরি রুইদাস এরকমভাবেই মারা পড়েছিল। তখন সে ক্ষেত্র বাঙালের সাবাড়ে কাজ করতো। ভরনার সময় পেরিয়ে যাচ্ছিল। তখনও হরি রুইদাস আর বিশ্ব দলুই সাবাড়ের মুরগি খোঁয়াড়ের পাশে বসে গাঁজার কল্কেয় টান দিচ্ছিল। হুঁশ যখন ফিরল, দৌড়ে গিয়ে গাঙ বাঁধে দাঁড়িয়ে দেখল ভরনা পেরিয়ে গেছে। ভাঁটার টান পড়ল বলে। ভাঁটার টান পড়লে জাল ঘুরে যাবে। সব মাছ বেরিয়ে এদিক ওদিক হয়ে যাবে। জাল জড়িয়ে যাবে টানে। সব নৌকা তখন জাল ঝেড়ে ফিরবে ফিরবে করছে। বিদ্যুৎগতিতে হরি আর বিশ্ব নৌকা খুলে বেপরোয়া দাঁড় আর বৈঠা চালিয়ে জালের কাছে গিয়ে দেখে জালের ঘুরে যাবার উপক্রম। কোনোক্রমে পোঁটার মাছ নৌকায় তোলে হরি আর বিশ্ব।  তারপর ঘটল কাণ্ডটা। জাল ঘুরে জড়িয়ে যাচ্ছিল। সেটা ঠিক করা খুব জরুরি। নইলে পরের ভরনাটা পুরো লোকসান হয়ে যাবে। তখন ভাঁটার টান বিপুল জলরাশিকে হুড়মুড় করে সাগরের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। হরি সামলাতে পারল না। পা পিছলে পড়ে গেল জালের মুখে। আর যেই না পড়া অমনি চলে গেল পোঁটায়। বিশ্ব প্রথমটায় হতচকিত হয়ে কী করবে বুঝে উঠতে পারল না। তারপর নিজে কিছু করার চেষ্টা করল। পোঁটার দড়ি খোলার চেষ্টা করল, পেরে উঠল না। চিৎকার করতে শুরু করল বিশ্ব। তার চিৎকার শুনে ঘাট থেকে বড় নৌকায় লোকজন গিয়ে পোঁটার জাল কেটে দিতে পেরেছিল বটে, কিন্তু ততক্ষনে হরি রুইদাস আর বেঁচে ছিল না, থাকবার কথাও নয়।

 “ওওওওওওওভাইপোওঅঅঅঅঅঅঅঅ” দূর থেকে কে যেন ডাকছে। গংগাবুড়ির ঘাটের ডান দিকে একটা বাঁক আছে। সেইদিকে তকিয়ে দেখলুম বিলা মালি ডাকছে হাত নেড়ে। আমি উত্তর দিলুম ” হঁ, কওওওওওও”

কাই যাউটুউউউউ?

ওপাশকেএএএএএ

ঘুরতেএএএএ?

হঁ অ অ অ অ।

বিলা মালিরা নৌকা নিয়ে বেন্তি জালের দিকে এগোচ্ছে। আমি এগোচ্ছি লুথিয়ানের নাবার দিকে। আমার দেরি হলে ক্ষতি নেই। ভাঁটা পড়লে বরং সুবিধাই। ভাঁটার টানে নৌকা একাই যাবে দক্ষিণের জংগলে। বামদিকে শ্মশান ঘাট। চোখ পড়তেই দেখলুম গপগপ করে ঘন সাদা ধোঁয়া আকাশে উঠে গোটা আকাশটা সাদা করে দিচ্ছে। মড়া পোড়ানো হচ্ছে। আনমনে মুখ থেকে বেরিয়ে গেল ” আবার কে মরল রে!”

নৌকার কুঁড়ের ভিতর থেকে শম্ভু জবাব দেয়, ” কাল রাত্রে সুশান্ত সাউর বৌ মরচে। কলেরা হইতল।”

“অহহ” একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে গেল অজান্তেই।

 ভাঁটার টান শুরু হয়েছে।  আমি আর হাল ঘুঁটছি না। বাতা ধরে আছি ঠিকঠাক দিকে। ভাঁটার টান একটু পরেই তীব্র হয়ে উঠবে। এখানে ভাঁটার টান যখন তীব্র হয়,  মনে হয় কেউ গোগ্রাসে সমস্ত জল গিলে খাচ্ছে আর বিপুল জলের রাশি দৌড়ে যাচ্ছে সেই মুখ গহ্বরের দিকে। নিমেষে বোধ হয় সব শূন্য হয়ে যাবে। একটা মাণ্ডাস ভেসে যাচ্ছে নৌকার গা ধরে। একটা বৌ। বোধ হয় কাল রাত্রে সাপে কেটেছিল। আজ ভেসে যাচ্ছে অনন্তের উদ্দেশ্যে। শম্ভু ডাকল ভিতর থেকে। আমি মাথা নামিয়ে ভিতরে তাকালুম। দেখলুম গৌরিকে জড়িয়ে বসে আছে সে। আমি তাকাতে গৌরি হয়ত লজ্জা পেয়ে মুক্ত হতে চাইছে। কিন্তু শম্ভু ছাড়ছে না। তার কোলের উপর গৌরিকে বসিয়ে রেখেছে সে। গৌরির পা দুদিকে ছড়ানো। তার বুকের কাছে শম্ভুর মুখ। গৌরি ছাড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে এখন শম্ভুর কাঁধে এলিয়ে পড়েছে। বল্লুম ” কী হইচে? ক’

মাণ্ডাসের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে বল্লে ” দ্যাকচু?”

হঁ।

আমানকের সাইত ভাল।

কেনি?

মড়া দেখলে সাইত ভাল,  লোক কয়, শুঁয়ুনি?

হুম।

আমি একটু থেমে বল্লেম ” অ্যাটা মড়া না। বাঁচিয়া উঠতে পারে আবার, জাঁউ?

শম্ভু দাঁত বিকৃত করে হেসে বল্লে ” কুনদিন দ্যাকচু বাঁচিয়া আসসে?”

না, দেখিনি, শুঁউচি।

কার কাছে?

আমার ঠাকমা কইতল একবার।

আবার হাসি শম্ভুর মুখে। “তোর ঠাকমা দ্যাকচে নিজের চোখে?”

না মনে হয়।

আরে শুঁউ। কেউ কুনদিন দ্যাখেনি।

কেউ দ্যাখেনি?

নাহ।

তবে লোক যে কয়!

সব লোক তোর মতো ঠাকমার কাইনু শুঁউছে।

হো হো করে হেসে উঠল শম্ভু। আমার এত দিনের জানার ভিত নড়ে গেল। আমি বেপরোয়া হয়ে তাকে প্রশ্ন করলুম ” তুই ঠাকুর বিশ্বাস করুনি?”

করি,  কিন্তু মরা লোক কুনদিন বাঁচেনি।

বাঁচেনি?

না, জীবনে না।

কিছুটা থেমে শম্ভু আবার মুখ খুল্লে ” মাউষ মোট একবারই জন্ম ল্যায়। পরের জন্ম টন্ম ফালতু। তাউজন্যে এক জন্মে বেশি করিয়া ভাল বাসতে হয়। এই দ্যাখ,  আমি কীর্কম গৌরিকে…  কথা শেষ করে না। তার আগেই গৌরির দুই গালে ঠোঁটে অজস্র চুমু খেতে শুরু করে। দুই স্তনের মাঝখানে মুখ গুঁজে দেয়। আমি চোখ সরিয়ে নিই। নৌকা ভারার খালের কাছাকাছি এসে পড়েছে। এই খালেই নৌকা গাছের সংগে বেঁধে রেখে আমরা নেমে যাবো। তারপর ভাঙা মন্দিরের কাছে চলে যাবো, জংগলের পথ ধরে।

 শম্ভু সামনে, তারপর গৌরি ও শেষে আমি। গৌরিকে মাঝখানে রেখে হেঁটে যাই আমরা। এখানে পুরো জায়গাটা বালি আর বালি। সাদা স্বচ্ছ্ব বালি। ছোট ছোট গাছের জংগল। লতার মতো এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়েছে ল্যাটা গাছ। ল্যাটা একটা গোলাকার ফল। এর ভিতর সাদা বীজ থাকে। বিশ্রী ভয়ংকর তেতো। ছোটবেলায় জোরজবরদস্তি করে সাত সকালে এই ল্যাটা কত বার খাইয়েছে মা। ল্যাটা গাছে কাঁটা থাকে। সরু সরু,ফণিমনসা গাছের কাঁটার মতো। বালির উপর বাজবরণ  আর ফণিমনসা গাছ ছড়িয়ে ছিটিয়ে এদিকটায়। সাবধানে হাঁটছি। ফণিমনসার কাঁটা ফুটলে রক্ষে নেই। যন্ত্রণার চোটে বুক ফেটে যাওয়ার জোগাড় হয়। বালি এখানে মাঝে মধ্যে উঁচু বালিয়াড়ির চেহারা নিয়েছে। তাতে জোয়ারেও জল ওঠে না। আরো উপরের দিকে হেঁটে গেলে এই বালি যেন জল আটকে দেবার জন্য দ্বীপ তৈরি করে ফেলেছে। বালিয়াড়ির উপর এক ধরণের লতাগাছ পাতায় পাতায় বালি ঢেকে দিয়েছে। বছরভর বেগুনি ফুল ফুটে থাকে। অজস্র ফুল। যেন ফুলের জলসা বালিয়াড়ির উপর।

  ভাঙা মন্দিরের কাছে পৌঁছালুম। কাঠের গুঁড়ির উপর একটা কুঁড়ে। উপরের আর তিন পাশ তক্তা দিয়ে সাঁটা। উপরে যাতে জল না পড়ে তাই কোনকালে তক্তার জোড়ামুখে তুলো আর ঘেঁষ দেওয়া। চটের বস্তায় আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়ার পর সেই ছাইএর সংগে আলকাতরা মিশিয়ে একটা সুন্দর চটচটে কাদার মতো আঠালো জিনিস তৈরি করা হোত। তাকেই আমরা ঘেঁষ বলতুম। নৌকার তালায় যেখানে দুটো তক্তার জোড়ামুখ সেখানে তুলো গুঁজে তার উপর এই ঘেঁষ লাগিয়ে দেওয়া হতো। জল ঢোকার রাস্তা এভাবেই বন্ধ করে, অথৈ জলে পাড়ি দেয় নৌকাগুলো।

 মন্দিরের ভিতর বনবিবি শাহজংগিলা আর দক্ষিণ রায়ের মূর্তি।  অনেক দিন আগেকার। রং চটে গেছে। মাটি খসে পড়েছে দু এক জায়গায়। এক সময় এখানে বচ্ছরে পূজা হতো। নৌকা ভর্তি হয়ে আশেপাশের দ্বীপ গুলো থেকে লোক আসত। সারাদিন থাকত। জলে গা ভেজাতো। বাচ্চারা বনে লুকোচুরি খেলতো। দু একটা দোকানদানিও বসতো। ছোলা সেদ্ধ, ঘুগনি এই সব। পেট পুরে প্রসাদ দেওয়া হতো। সন্ধার আগে আবার সবাই ফিরে আসতো। সে সব অনেক দিন আগেকার কথা। ফরেষ্টার এই সব বন্ধ করে দেয়। পূজা বন্ধ হয়ে যায়। মন্দির টা থেকে যায় একটা স্মৃতিসৌধের মতো। কেউ আর এখানে আসে না।

  অনেক ছোটবেলায় আমি একবার বনবিবি পূজা দেখতে এখানে এসেছিলুম মনে পড়ল। হারান মণ্ডলের নৌকায় করে আমি আর দাদা। মন্দিরের একটু দক্ষিণে হেঁটে গেলে একটা বিশাল বালিময় ন্যাড়া জায়গা। দু চারটে লম্বা শিকড়ের ঘাস ছাড়া প্রায় কোনো গাছগাছালি নেই। আর এই ন্যাড়া জায়গাটা জুড়ে চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে অসংখ্য পোড়ামাটির ভাঙা বাসনপত্র। অদ্ভুত দেখতে সেসব বাসনপত্রের নকশাকাটাও ছিল আশ্চর্যরকমের। কত লোককে জিজ্ঞেস করেছি এসব কোথা থেকে এসেছে এখানে? নাকি এখানেই ছিল? কেন ছিল? কেউ গ্রাহ্য করেনি তেমন। কেউ উত্তর দেবার মতো যোগ্য প্রশ্ন বলেই মনে করেনি। আমরা যে নৌকায় করে গেছিলুম সেই নৌকার মাঝি বলেছিল ” এখাঁয়ে এক সমে লোক রইত। আমানকের মতো তানকের পাড়া থাইল। মনে হয় ভূমিকম্পে ধ্বংস হইছে। ঠাকুর সব ধ্বংস করিয়া দিচে।” কে ধ্বংস করেছে সত্যিই খোঁজ নিইনি কখনো। তবে একটা সভ্যতাকে চোখের সামনে কল্পনা করতে পেরেছিলুম।

  মন্দিরের তিন দিক দেওয়াল। দক্ষিণ খোলা। আমরা গিয়ে দক্ষিণে দাঁড়ালাম। ভিতরে গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য লতা। মন্দিরের তিন দেওয়ালের ভিতরেই একটা ছোট জংলি বন তৈরি হয়েছে। আর একটু কাছে গিয়ে ভয়ে দু পা পিছিয়ে এলুম। “কী হইল রে?” শম্ভু বল্লে। আমি হাতের ইশারা করে দেখতে বল্লুম। সে দেখে হাসলো। একটা কেউটে সাপ, হাত চারেক তো হবেই, গোল চক্রের মতো শুয়ে আছে ভিতরে। শম্ভু বল্লে “বার কর শ্লা”। আমি তখনো সাপটার দিক থেকে চোখ আর মন কোনোটাই সরাতে পারিনি। শম্ভু আবার বল্লে ” অই শ্লা অপু, বার কর”। আমি জামার পকেট থেকে মহাতীর্থ সিঁদুরের নতুন কৌটা বের করে শম্ভুর হাতে দিলুম। কৌটা খুলে শম্ভু হাসতে হাসতে বল্লে ” শ্লা অপু, তুই তো আছু, মা বনবিবি আর অউ সাপটাকে সাক্ষী রাখিয়া আমি গৌরিকে ব্যা হইটি।”

  হাঁড়ি কড়াই ও অন্য সব জিনিসপত্র নামিয়ে এনেছি নৌকা থেকে। ভারার খালে হাঁচা করে আধসের মতো পারসে আর চিংড়ি মাছ ধরেছিলুম। মাখামাখা করে ঝাল আর ভাত রান্না করলুম। পুরানো সভ্যতার ধ্বংসাবশেষের উপর আবার তিনটে লোক একটা দিনের জন্য হলেও নতুন সভ্যতার আঁচ রেখে যাবে। এদিকে ওদিকে মাটির বাসনপত্র ছড়িয়ে আছে। তার মাঝখানেই আমাদের এই সভ্যতার হাঁড়ি কড়াই আর বাসন। একটা রাজ্যের ধ্বংসের উপর আমাদের সৃষ্টির প্রলেপ পড়ে যাচ্ছে। নতুন পুরানো মিলে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। কপালে আর সিঁথিতে লাল সিঁদুর গৌরির। গাছেদের কোলে, আকাশের নীচে আর গোটা পৃথিবী যেখানে এসে মাথা নত করেছে সেই অনিন্দ্যসুন্দর সমারোহে তার বিয়ে হয়েছে আজ এক্ষুণি।

   নৌকা যখন ছাড়লুম ফিরবো বলে তখন জোয়ার পড়ে গেছে। জোয়ারের গাঙ আস্তে আস্তে নৌকাটা ঘরের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। কিছু বলবো বলে কুঁড়ের ভিতর চোখ ফেল্লাম মুখ নীচু করে। গৌরির গায়ে কোনো কাপড়ের চিহ্ন নেই। তার বুকে মুখ রেখে শম্ভু পান করছে শত সহস্র বছরের আদিম ও শাশ্বত সুধা।

  পশ্চিমে সূর্য লুথিয়ানের মাথায় লাল হয়ে আছে। জঙ্গলের গা ধরে বহু দূর অব্দি জলের লাল আভায় সমস্ত জগৎ সংসার যেন লাল সিঁদুর পরেছে, ঠিক গৌরির মতো।

ক্রমশ…

লেখা পাঠাতে পারেন

আগের পর্ব পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন

গৌ ত ম   ম ণ্ড ল-র ধারাবাহিক উপন্যাস–হেঁতালপারের উপাখ্যান(১১তম পর্ব)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here